চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কেবল ৩৬ দিনের কোনো আন্দোলন নয়

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অন্যতম মাইলফলক। এটা একটা জাতির দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতীক। দীর্ঘ দেড় যুগের লাগাতার আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রতিরোধ, ত্যাগ, তিতিক্ষা ও প্রত্যাশার ফসল। দীর্ঘ দেড় যুগের আন্দোলন, নির্যাতন, গুম, খুন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষার যে সঞ্চিত বারুদ জমেছিল, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তারই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
২০২৪ এর এই অভ্যুত্থান বা গণ আন্দোলন ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনকে আমি দুইভাবে দেখি।

প্রথমত,এবং গৌণ বিষয়টি হচ্ছে, শুরুতেই আমি বলেছি “জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার” গণঅভ্যুত্থান। এই অভ্যুত্থান বা গণআন্দোলনকে অনেকে জুলাই অভ্যুত্থান হিসেবে অভিহিত করেন। কিন্তু এই সংগ্রামের কৃতিত্ব আমি ব্যক্তিগত ভাবে শুধু জুলাই মাসকেই দেওয়ার পক্ষপাতী না।
জুলাই মাসকে ঘিরে যতটা আলোচনা হয়, আগস্ট মাসের ভূমিকা প্রায়ই তার তুলনায় ম্লান হয়ে যায়। অথচ চূড়ান্ত পতন ঘটেছিল আগস্টেই। কারফিউ ভেঙে ৩ আগস্ট থেকে “এক দফা” আন্দোলনে রূপান্তর, ৪ আগস্টের নজিরবিহীন সংঘাত ও ব্যাপক প্রাণহানি, এবং সবশেষে ৫ আগস্ট খুনী হাসিনার দেশছেড়ে পলায়ন এই ধাপগুলো ছাড়া “জুলাই আন্দোলন” কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিণতি পেত না। বস্তুত আন্দোলনের সবচেয়ে সিদ্ধান্তমূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়টাই ছিল আগস্টের প্রথম সপ্তাহ, যখন রাষ্ট্রযন্ত্র ও জনতার মুখোমুখি অবস্থান সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তাই আমি একে শুধু এবং একমাত্র জুলাই অভ্যুত্থান না বলে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান বলতেই বেশী সাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
প্রকৃতপক্ষেতো কোটা সংস্কার দিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা জুলাইয়েরও আগে থেকে।

পাশাপাশি আমি আরেকটি কথা বলেছি “ছাত্র-জনতার” গণঅভ্যুত্থান। “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান” নামকরণটি যথার্থ হলেও এখানে “জনতা” শব্দটিকে আমি বেশী গুরুত্ব দিতে চাই। আন্দোলনের সূচনা যদিও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হয়েছিল, কিন্তু জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এটি কোটা সংস্কার বাদী ছাত্র-আন্দোলনের গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি সর্বজনীন গণআন্দোলনে রূপ নেয়। যেখানে কোটার স্বার্থ পরিপন্থী হয়েও শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর, পোশাকশ্রমিক, অভিভাবক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী, এমনকি অনেক জায়গায় নারী ও শিশুরাও প্রতিরোধে শামিল হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের সংগঠিত প্রতিরোধ, সাংবাদিক মহলের ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রকাশ, এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি,, এই সবকিছু মিলেই আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখা এবং সফল করা সম্ভব হয়েছে। তাই এই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক শ্রেণি বা পেশার নয়, বরং একটি সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধের ফসল।

এখানেই দ্বিতীয় ও মূখ্য বিষয়টিতে আসা যায়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে যে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, তাকে অনেকেই কেবল কয়েক দিন বা সাপ্তাহের আন্দোলন হিসেবে দেখে বা দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক গভীর। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই গণ-বিস্ফোরণ আসলে দীর্ঘ প্রায় দেড় থেকে সতেরো বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বঞ্চনা, দমন-পীড়ন আর প্রতিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি। একে বোঝার জন্য শুধু জুলাইয়ের ৩৬ দিনের দিকে তাকালে চলবে না, তাকাতে হবে তার আগের দীর্ঘ পটভূমির দিকে। ১৫ থেকে ১৭ বছরের এক দীর্ঘ সংগ্রামের দিকে। ২০০৯ সালে হাসিনার ক্ষমতা আসার দিন থেকে গুনা শুরু করলে ২০২৪ এর ৫ ই আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর বা প্রায় ৫,৫০০ দিনেরও বেশী এক সুদীর্ঘ ইতিহাস ও সংগ্রামের দিকে।

শুরুটা হয় পিলখানা হত্যাকাণ্ড দিয়ে। হাসিনা ক্ষমতায় আসার মাত্র ৫২ দিন বা প্রায় দেড় মাস পর সংঘটিত হয় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন ও ইতহাসে সবচেয়ে কলঙ্কময় একটা অধ্যায়। প্রায় ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন এই হত্যাকাণ্ডে। পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহ, যেখানে বহু সেনা কর্মকর্তা নিহত হন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই ঘটনাই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দীর্ঘস্থায়ী অবিশ্বাসের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। অনেকে ধারণা করেন এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই হাসিনা তার ক্ষমতার চেয়ার দীর্ঘস্থায়ী করার ভিত গড়েছে৷
এই সময় থেকেই গুম, খুন, ক্রসফায়ারের ঘটনা নিয়মিতভাবে হতে শুরু করে। ২০১০ সালে বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম অপহৃত হয়ে চিরতরে নিখোঁজ হন।

এরপর ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচনকে বিতর্কিত করার পথ তৈরি করে দেয় এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম করে দেয়।

২০১২ সালে একই সঙ্গে ঘটে তিনটি প্রতীকী ঘটনা,, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড; শিবির সন্দেহে বিশ্বজিৎ দাসকে ছাত্রলীগ কতৃক প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা; এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম৷

২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন হয়, যা দেশে গভীর মেরুকরণ তৈরি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় মে মাসে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ ও রাতের অভিযানে মতিঝিলে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় বহু হতাহতের অভিযোগ ওঠে, তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী পক্ষের হিসাবে বিরাট ফারাক রয়ে গেছে এবং বিষয়টি আজও অমীমাংসিত। মৃতের সংখ্যা ঠিক কত ছিলো তা নিয়েও সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ রাখেনি হাসিনা।
২০১৪ সালে জানুয়ারিতে বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের প্রায় অর্ধেক আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। এখান থেকেই “একতরফা নির্বাচন” ধারণাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থায়ী রূপ নিতে শুরু করে।

২০১৫ সালে অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধ হাসিনা সরকারের প্রতি আন্দোলন ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের অবরোধ-হরতাল ও রাষ্ট্রীয় কঠোরতা সহিংসতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়, আর একে কেন্দ্র করে ২০১৬-১৭ সালে গুমের সংখ্যা সমগ্র শাসনামলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে হাসিনা সরকার। পরবর্তীতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মিথ্যা মামলায় তাকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর পর দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৮ সাল ছিল জুলাই ২০২৪-এর সবচেয়ে প্রত্যক্ষ পূর্বসূরি। এপ্রিলে প্রথম দফায় বড় আকারের কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়, যার চাপে সরকার কোটা পদ্ধতি বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। জুলাই-আগস্টে ঘটে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, অক্টোবরে পাস হয় বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, আর ডিসেম্বরের নির্বাচন “মধ্যরাতের নির্বাচন” নামে পরিচিতি পায়। এই সময়ে মাদকবিরোধী “যুদ্ধ”-এর নামে শত শত ক্রসফায়ারে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী ও ভিন্নমতের মানুষকে হত্যা করে হাসিনা রেজিম। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০১৯ সালে বুয়েটে আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগ কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে, যা দেশে তীব্র আলোড়ন গড়ে তুলে।

এর পর আসে মহামারী করোনা ও হাসিনার অবৈধ সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় তীব্র অসাফল্যতা। ২০২২ সালে দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট তীব্র হয়, আর ২০২৩ সালজুড়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো একদফা দাবিতে সমাবেশ করে।
বিএনপি ২০২৩ সালের ২৮ শে অক্টোবর ১ দফা অর্থাৎ স্বৈরাচার হাসিনা পতনের দাবি সর্বপ্রথম দেশবাসীর তরে উত্থাপন করে। বিশেষত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার অভিযান চলে। যাতে বিএনপির প্রায় পুরো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাবন্দি হন। হাজার হাজার নেতাকর্মী খুন হয়, গুম হয়, খুন হয়।

জানুয়ারি ২০২৪-এ বিরোধী দলের বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ছিল ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় বিতর্কিত নির্বাচন, তথা ডামি নির্বাচন।

এই দীর্ঘ সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১০ সালে হাসিনা সরকার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। এক যুগের বেশি সময়ে এতে মোট ৪২টি মামলায় ১০৩ জনের বিরুদ্ধে রায় হয়, যার মধ্যে ৭১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়। সরকারপক্ষ এটিকে ১৯৭১-এর গণহত্যার বিলম্বিত ন্যায়বিচার বলে দাবি করলেও, সমালোচক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো (যেমন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ) বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড না মানার অভিযোগ তুলেছে এবং একে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে দেখেছে। এই কারণেই অনেকে একে “বিচারিক হত্যাকাণ্ড” বলে অভিহিত করেন।

অবশেষে চব্বিশের ৫ জুন হাইকোর্ট কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে; সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়া, ছাত্রলীগের হামলা এবং ১৬ জুলাই আবু সাঈদ ও ওয়াসিমের হত্যাকাণ্ড আন্দোলনকে অপ্রতিরোধ্য গণআন্দোলনে রূপ দেয়, যা ৩ আগস্ট থেকে পূর্ণাঙ্গ এক দফা স্বৈরাচার হাসিনার পতন আন্দোলনে রূপান্তরিত হয় এবং ৪ আগস্টের দেশজুড়ে নজিরবিহীন সংঘাতের পর ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দেশছেড়ে জান নিয়ে পালানোর মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ সংগ্রামের পরিসমাপ্তি ঘটে।

সুদীর্ঘ এই দেড় দশকের আন্দোলন -সংগ্রামে শুধু একক দল হিসেবে বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। ১৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। যাদের মধ্যে কারো কারো সন্ধান আজো পাওয়া যায় নি। দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, যারা এখনো নিখোঁজ তাদের প্রায় আটষট্টি শতাংশ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ; আর যারা গুম হয়ে জীবিত ফিরেছেন তাদের মধ্যে কেবল বাইশ শতাংশ বিএনপির। অর্থাৎ বিএনপির নেতাকর্মীরা গুম হয়ে চিরতরে নিখোঁজ বা নিহত হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন সবচেয়ে বেশি।

২০২৪-এর কোটা আন্দোলনে শুরু হওয়া প্রথমে ছাত্র আন্দোলন ও পরে গণ-আন্দোলন কোনো নতুন দাবি ছিল না, কেননা ২০১৮ সালেই একবার এই লড়াই হয়েছিল। পনেরো বছরে প্রায় দেড় হাজার গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সাংবাদিক নির্যাতন ও তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন মিলিয়ে যে ক্ষোভ জমেছে, তা এক মাসে তৈরি হয়নি। পূর্ববর্তী প্রতিটি প্রতিরোধ পরবর্তী প্রজন্মকে সংগঠিত হতে শিখিয়েছে। হাজার হাজার মানুষের রক্ত, সংগ্রাম, ত্যাগ জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে মিশে আছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবলমাত্র ৩৬ দিনের ঘটনা নয়, এটি একটি জাতির দীর্ঘ সংগ্রামের শেষ প্রতিঘাত। ৩৬ দিনের হিসাব শুধু ঘটনার দৃশ্যমান পৃষ্ঠতলকে ধরে, কিন্তু ১৭ বছরের হিসাব ধরে তার শিকড়কে। জুলাই ছিল বিস্ফোরণের মুহূর্ত, যার বারুদ জমা হয়েছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে।
অভ্যুদয় কখনো আকস্মিক হয় না, তার পেছনে থাকে দীর্ঘ, ধৈর্যশীল ও ত্যাগের এক অবিরাম ধারা। জুলাই ছিল সেই ধারার একটি অধ্যায়,, পনেরো বছর সাত মাসের এক দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে উজ্জ্বল ও মূল্য-চুকানো পরিণতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারের মতো বলতেই হয়,, “যেমন ১৯৭১ সাল আমাদের চিন্তায়, আমাদের মননে, আমাদের অস্তিত্বে, আমাদের মজ্জায়; ঠিক একইভাবে এই ১৫ বছরের লম্বা ইতিহাস, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ইতিহাস, সংগ্রামের ইতিহাস, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস— এটা আমাদের বুকেই আমরা ধারণ করি।”

লেখক পরিচিতি :

মাহির ইবনে ওমর,

এক্সিকিউটিভ , টিবিডি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *