সেলিম আল দীন: বাংলা নাটকের স্বরূপসন্ধানী

বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে সেলিম আল দীন (১৯৪৯-২০০৮) এক অনন্য নাম। তাকে রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী কালের বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এর কারণ শুধু তার নাটকের সংখ্যাগত প্রাচুর্য নয়, বরং তিনি বাংলা নাটকের ভাষা, আঙ্গিক ও দর্শনকে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন। তার সৃষ্টিশীলতা বাংলা নাটক কে এক অনন্য রূপ দিয়েছেন রবীন্দ্র পরবর্তী সময়ে।

ফেনী জেলায় সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্ম নেওয়া সেলিম আল দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং পরবর্তীতে সেই বিশ্ববিদ্যালয়েরই নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। তার নাট্যজীবনের সূচনা ঘটে ১৯৭২ সালে, যখন নাট্যদল “বহুবচন” তার প্রথম মঞ্চনাটক “সর্প বিষয়ক গল্প” মঞ্চস্থ করে। শুরুর দিকে তিনি পাশ্চাত্য নাট্যরীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন, কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি সেই পথ পরিত্যাগ করে বাংলার মধ্যযুগীয় নাট্যরীতির বিপুল সম্ভার থেকে নিজের একান্ত জগৎ গড়ে তোলেন। এই আত্ম-আবিষ্কারের যাত্রাই পরবর্তীতে তাকে বাংলা নাটকের সবচেয়ে মৌলিক তাত্ত্বিকে পরিণত করে।

সেলিম আল দীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক অবদান হলো তার প্রবর্তিত “দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব”। তিনি পাশ্চাত্য শিল্পের প্রচলিত সব বিভাজন,, যেমন কথাসাহিত্য, কাব্য ও নাটকের মধ্যকার কঠোর সীমারেখা বাঙালির সহস্র বছরের নন্দনতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার করেন এবং এক নবতর শিল্পরীতির প্রবর্তন করেন। এই তত্ত্বের মূল কথা হলো, পশ্চিমা নাট্যতত্ত্বে যেভাবে আখ্যান, সংলাপ ও অভিনয়কে পৃথক পৃথক শিল্পমাধ্যম হিসেবে দেখা হয়, বাংলার লোকজ ঐতিহ্যে তা মূলত অভিন্ন ও সমন্বিত। এই তত্ত্বকে তিনি “ফিউশন তত্ত্ব” নামেও অভিহিত করেছেন, যেখানে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের, আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী নাট্যরীতির মধ্যে দ্বৈততা থাকা সত্ত্বেও একধরনের অদ্বৈত সমন্বয় সাধিত হয়। তার দ্বিতীয় মৌলিক তাত্ত্বিক অবদান হলো “কথানাট্য” নামক বর্ণনাত্মক নাট্যরীতির উদ্ভাবন। প্রথাগত পাশ্চাত্য নাটকে যেখানে সংলাপ ও দৃশ্যের মাধ্যমেই গল্প এগিয়ে যায়, সেখানে সেলিম আল দীন বাংলার পালাগান, কথকতা ও পুঁথিপাঠের ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এমন এক নাট্যরীতি তৈরি করেন যেখানে বর্ণনা ও সংলাপ একই সঙ্গে, একই কাঠামোয় বিদ্যমান থাকে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক তাকে এই কথানাট্যের রচয়িতা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তার তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক প্রকল্প ছিল “নিউ এথনিক থিয়েটার” এর ধারণা, যার মাধ্যমে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট “জাতীয় নাট্য-আঙ্গিক” নির্মাণের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। ঔপনিবেশিক শাসনামলে আমদানি হওয়া ইউরোপীয় প্রসেনিয়াম-কেন্দ্রিক নাট্যরীতির বিপরীতে বাংলার নিজস্ব নাট্য-ঐতিহ্যের ভিত্তিতে একটি স্বতন্ত্র জাতীয় নাট্যভাষা গড়ে তোলাই ছিল এর লক্ষ্য।

সেলিম আল দীনের নাট্যচিন্তাকে উত্তর-ঔপনিবেশিক দৃষ্টিকোণ থেকেও মূল্যায়ন করা যায়। ঔপনিবেশিক আধুনিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল স্থানীয় জ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিল্পরীতিকে অপেক্ষাকৃত নিম্নতর হিসেবে বিবেচনা করা এবং ইউরোপীয় নন্দনতত্ত্বকে সার্বজনীন মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সেলিম আল দীন এই সাংস্কৃতিক শ্রেণিবিন্যাসকে প্রশ্ন করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে বাংলার লোকঐতিহ্য ও মৌখিক সংস্কৃতির মধ্যেও জটিল নন্দনতত্ত্ব, আখ্যানপ্রকরণ ও অভিনয়রীতি বিদ্যমান। তার দেশজ নাট্যরীতি অনুসন্ধান তাই কেবল ঐতিহ্যের প্রতি আবেগ নয়; বরং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় পুনর্গঠনের একটি সচেতন শিল্পতাত্ত্বিক প্রয়াস। এই কারণে তার নাট্যচর্চা বাংলাদেশের উত্তর-ঔপনিবেশিক সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় নির্মাণের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সেলিম আল দীনের নাট্যশিল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দেশজ উপাদানের সৃজনশীল ব্যবহার। বাংলার লোকজ সংস্কৃতির পালাগান, কথকতা, পাঁচালি, যাত্রা, কীর্তন, লোকগাথা, লোকবিশ্বাস, গান ও নৃত্য তার নাট্যভাষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে তার শিল্পের মৌলিকত্ব এখানে যে তিনি লোকঐতিহ্যকে সরাসরি অনুকরণ করেননি। বরং লোকরীতির অন্তর্নিহিত আখ্যানপ্রকরণ, ভাষা, ছন্দ ও অভিনয়শৈলীকে আধুনিক নাট্যচেতনার সঙ্গে যুক্ত করে নতুন শিল্পরূপ নির্মাণ করেছেন। ফলে তার নাটকে ‘লোকজ’ কোনো অলংকার নয়; বরং নাট্যকাঠামোর অন্তর্গত নীতিতে পরিণত হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সেলিম আল দীনের নাট্যচর্চাকে দেশজ আধুনিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রয়াস হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

সেলিম আল দীনের নাটকের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি ছিলেন মূলত প্রান্তিক ও নিচুতলার মানুষের শিল্পী। ভাঙা মানুষ, বিলুপ্তপ্রায় উপজাতি সম্প্রদায়, লাঞ্ছিত নারী – এই শ্রেণির মানুষেরাই তার নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্। তার নাটকগুলোতে শ্রমজীবী মানুষ ও বাংলার আবহমানকালের সংস্কৃতি বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদী ধারায় উপস্থাপিত হয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করেন। তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে “কিত্তনখোলা”, “ হরগজ”, “চাকা”, “কেরামতমঙ্গল”, “হাতহদাই”, “যৈবতী কন্যার মন”, “নিমজ্জন”, “বনপাংশুল”, “প্রাচ্য”, “জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন”, “মুনতাসির”, “শকুন্তলা” এবং “একাত্তরের যীশু”। তিনি দীর্ঘদিন দেশের অন্যতম প্রধান নাট্যদল “ঢাকা থিয়েটার”-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেখানে তার তাত্ত্বিক ধারণাগুলো বাস্তবে মঞ্চস্থ হওয়ার সুযোগ পায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে অধ্যাপনার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে নাট্যকলাকে একটি স্বতন্ত্র একাডেমিক শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, এবং তার হাত ধরেই বহু পরবর্তী প্রজন্মের নাট্যকার ও নির্দেশক গড়ে উঠেছেন। তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, নাট্যবিষয়ক বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা পূর্বক বাঙলা নাটকের সহস্র বৎসরের ইতিহাস এবং তার একটি সুস্পষ্ট আঙ্গিক নির্মাণেও সমর্থ হন, রচনা করেন মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য (১৯৯৬)। বাঙলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ বাঙলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদন করে বাঙলা নাট্যের কোষগ্রন্থের অভাব পূরণ করতেও সক্ষম হয়েছেন তিনি। নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছা্ড়া, নাট্যশিক্ষার্থীদের জন্য তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ (১৯৮২)। তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে- কাব্যগ্রন্থ-কবি ও তিমি (১৯৯০), উপন্যাস-অমৃত উপাখ্যান (২০০৫)। তাঁর রচিত সব সৃজনকর্ম নিয়ে ৫খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে সেলিম আল দীন রচনাসমগ্র [১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ (২০০৫-২০০৯)]।

সেলিম আল দীনের অবদান দেশে-বিদেশে বহুভাবে স্বীকৃত হয়েছে। তাঁর রচিত হরগজ নাটকটি সুইডিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল কর্তৃক হিন্দি ভাষায় মঞ্চস্থ হয়েছে। সেলিম আল দীনের নাটক ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তিনি ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে কলকাতার আকাদেমি মঞ্চের নান্দীকার পুরস্কার ও শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন নাট্যকারের জন্য টেনাশিনাস পুরস্কার, “একাত্তরের যীশু” চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ সংলাপের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, খালেকদাদ সাহিত্য পুরস্কার, এবং জীবনের শেষ বছর ২০০৭ সালে একুশে পদক ও অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়।

সেলিম আল দীনকে বাংলা নাট্যসাহিত্যে অনন্য স্থান দেওয়ার মূল কারণ তিনটি স্তরে বিশ্লেষণ করা যায়। প্রথমত, তাত্ত্বিক স্তরে–

তিনি কেবল নাটক লেখেননি, বরং নাটক লেখার একটি সম্পূর্ণ দার্শনিক কাঠামো ও একটি স্বতন্ত্র আঙ্গিক নির্মাণ করেছেন, যা বাংলা নাট্যতত্ত্বে আজও পাঠ্য ও গবেষণার বিষয়।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক স্তরে– ঔপনিবেশিক-উত্তরকালে যখন বাংলা নাটক মূলত পাশ্চাত্য প্রসেনিয়াম রীতির অনুকরণে আবদ্ধ ছিল, তখন তিনি জাতীয় নাট্য-আঙ্গিকের প্রশ্ন তুলে বাংলা নাটককে ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার একটি বৌদ্ধিক আন্দোলন গড়ে তোলেন।

তৃতীয়ত, মানবিক স্তরে – তার নাটকের কেন্দ্রে সবসময় ছিল প্রান্তিক, নিপীড়িত ও বিস্মৃত মানুষ, যাদের কণ্ঠস্বর মূলধারার সাহিত্যে সচরাচর অনুপস্থিত থাকে।

সেলিম আল দীনের অবদান সৃজনশীল নাট্যরচনার বাইরেও বিস্তৃত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্বের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিকাশে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর ফলে বাংলাদেশে নাটক শুধু সাহিত্য বিভাগের একটি উপশাখা হিসেবে নয়, বরং অভিনয়, নির্দেশনা, নাট্যতত্ত্ব, ইতিহাস ও পারফরম্যান্সকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বতন্ত্র একাডেমিক শাস্ত্র হিসেবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। তার শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে বহু শিক্ষার্থী নাট্যচর্চাকে পেশাগত ও একাডেমিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণের সুযোগ লাভ করে। এই প্রাতিষ্ঠানিক অবদান তাঁর নাট্যকার-পরিচয়ের বাইরে তাকে বাংলাদেশের নাট্যশিক্ষার অন্যতম নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সর্বোপরি বলা যায়, সেলিম আল দীন বাংলা নাটকের ইতিহাসে কেবল একজন সফল নাট্যকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নন; তিনি বাংলা নাটকের স্বরূপ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে একটি বিকল্প নন্দনতাত্ত্বিক ধারণা নির্মাণ করেছেন। তিনি বাংলা নাটককে তার দেশজ শিকড়ের সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত করেছেন, লোকঐতিহ্যকে আধুনিক শিল্পের উপাদানে রূপান্তর করেছেন, কথননাট্যের বিকাশ ঘটিয়েছেন, নাট্যভাষায় আঞ্চলিকতা ও গীতলতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন, প্রান্তিক মানুষের জীবনকে নাটকের কেন্দ্রে এনেছেন এবং নাটক, কবিতা, গান, নৃত্য ও আখ্যানের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। একই সঙ্গে নাট্যতত্ত্ব, নাট্যগবেষণা, নাট্যশিক্ষা এবং নাট্যসংগঠনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান তাঁকে একজন পূর্ণাঙ্গ নাট্যব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

সেলিম আল দীনের সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত এই যে তিনি বাংলা নাটকের সামনে একটি মৌলিক আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তার দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব, কথানাট্য ও নিউ এথনিক থিয়েটারের ধারণা বাংলা নাটককে একটি নতুন ভাষা ও পরিচয় দিয়েছে,, যা পাশ্চাত্যের অনুকরণ নয়, বরং বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক শিকড় থেকে জাত। এই কারণেই তাকে “নাট্যাচার্য” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, এবং আজও বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের নাট্যচর্চায় তার তত্ত্ব ও আঙ্গিক নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথের পরে সেলিম আল দীনের নামটি তাই নিছক সম্মানসূচক নয়, বরং একটি যথার্থ তাত্ত্বিক ও শৈল্পিক অর্জনের স্বীকৃতি।

তথ্যসূত্র

• বাংলাপিডিয়া, “দীন, সেলিম আল” – জীবন, কর্ম, নাট্যচর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবদান।

• জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জার্নাল অব আর্টস – সেলিম আল দীনের নাট্যগঠন, কথননাট্য ও নাট্যভাবনা বিষয়ক গবেষণা।

• প্রথম আলো, “সেলিম আল দীন ও বাংলা নাটক” – সেলিম আল দীনের নাট্যভাবনা ও বাংলা নাট্যচর্চা বিষয়ে আলোচনা।

• সেলিম আল দীন, বাংলা নাট্যকোষ।

• সেলিম আল দীন, মধ্যযুগের বাংলা নাট্য।

About Author:

Mahir Ibna Omar

Executive, The Bangladesh Dialogue

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *